Love in the life of King of Laughter Shibram Chakraborty (লেখক শিবরাম চক্রবর্তীর জীবনে একমাত্র ভালোবাসা)
শিবরাম চক্রবর্তী ছিলেন ছোটদের এবং হাস্যকৌতুকএর লেখক I তাঁর জীবনে এক বিশেষ নারীর ভালোবাসা এসেছিলো I সেই ভালোবাসা নিয়েই এই লেখা I
শিবরাম আর রিনি
---- দেবাশীষ বাগচী
হাস্য ও শব্দকৌতূকের (PUN) এক বিশিষ্ট লেখক
হিসাবে শিবরাম চক্রবর্তীর পরিচিতি। কোনো
লেখায় তাঁর নাম দেখলে প্রথমেই মনের মধ্যে হাসির উদ্রেক এবং লেখাটা পড়লে এই হাসি
উত্থলে পরে চতুর্দিকে। শব্দের চয়ন ও মারপ্যাঁচে তাঁর জুড়ি নেই। বড় ও ছোটদের সমান
কৌতূহল। কিন্তু তাঁর সাংসারিক জীবন, এরই প্রায় উলটো। বেহিসেবি, গ্রাহস্থ ধর্মে সম্পূর্ণ উদাসীন। কোনো বিষয়েই
স্থিতু হবার ইচ্ছা তাঁর কোনো কালেই ছিলোনা। বিচিত্র তাঁর জীবন। কলকাতার ফুটপাথে
একসময় শয়ন, মল্লিক বাড়িতে
নিখরচায় ভোজন, কাগজের হকারি
কোনোটাই বাদ যায়নি। একমাত্র স্থিতু ছিলেন তিনি মুক্তারামবাবু স্ট্রিটের এক মেসবাড়ির একটি
ঘরে, যার দেয়ালে লিখে রাখতেন বিভিন্ন টেলিফোন নম্বর
এবং ঠিকানা আর তার নিচে দাগ দিয়ে রাখতেন কে পাওনাদার আর কে দেনাদার।
এই বিচিত্র জীবনে আশ্চর্য্যভাবে এসেছিলো এক পরম ভালোবাসার পরস। এই পরস তাঁকে সারাজীবন এক অপূর্ব আস্বাদে
রাঙিয়ে রেখেছিলো আর তিনি তাকে রেখে দিয়েছিলেন তাঁর গহন গোপন মানের মধ্যে। জীবনের সায়াহ্নে এসে লিখেছেন, তাঁর সেই নিবিড় ভালোবাসার কথা,
তাঁর ‘ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা’ গ্রন্থে।
হাঁস্যকৌতুকের অফুরান নিঃস্বরনের জন্য হয়তো এদিকটা একেবারেই তিনি প্রাধান্য
দেননি। শিবরাম কিন্তু সেই নারীকে বরাবর স্মরণ করে গেছেন তাঁর মনের মধ্যে। গ্রন্থের
সিকিভাগেরও বেশী শিব্রামের কৈশোরের ভালোবাসার স্মৃতিচারণ সেই মোহিনী কিশোরীর সঙ্গে, যার শেষ পরিণতি বিয়োগান্ত।
শিবরাম যখন চাঁচলে বাস করছিলেন, সেই সময় এক চিকিৎস্যক পরিবার তাঁদের বাড়ির পাশেই বাস করতে শুরু করেন। তাঁর চার
মেয়ে, শেষেরটির নাম রিনি। এই রিনির সঙ্গেই শিব্রামের ভালোবাসা জমে ওঠে। শিবরাম সন, তারিখ কিছুই প্রায় দেননি তাঁর লেখায়। তবে বলা
যায়, রিনির বয়স তখন ১২ আর
শিব্রামের ১৫। দুই পরিবারের মধ্যে যাতায়াত ছিল ভালোই এবং এরই মধ্যে শিবরামের মা,
একদিন রিনির মাকে বলে
বসেন তাঁর মেজোমেয়ের সঙ্গে শিবরামের বিবাহের ইচ্ছা। রিনির মা কোনদিনই চাননি তাঁদের
সঙ্গে শিবরামের কোন বিবাহ সম্পর্ক স্থাপিত হোক। সেই কারণে, তিনি ভাইফোঁটায় নিমত্রন করেন শিবরামকে। এই
ভাইফোঁটায় মেজোমেয়েটি ভাইফোঁটা দেয়নি, কিন্তু শিবরাম রিনির ভাইফোঁটা পেয়েছিলেন। যদিও শিবরাম অবশ্য এই ভাইফোঁটাকে
তেমন গুরুত্ব দেননি।
রিনিকে নিয়ে প্রায়ই বেরোতেন শিবরাম। লিখেছেন 'মাঠের মাঝখানে
সেই জুঁই গাছটার তলায় গিয়ে বসতাম একেকদিন। জুঁই ফুল ছাড়ানো কেমন গন্ধ জড়ানো
জায়গাটা। যেখানে গেলে রিনির সব গল্প
ফুরিয়ে যেত হটাৎ। আমার কোলে মাথা রেখে নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে কি যে ভাবত সে, কে জানে। তার মুখের উপর চোখ নামিয়ে কি দেখতাম আমি, কী জানি।'
'সারা আকাশ রঙ্গে
ভাসিয়ে দূরে দিগ্বলয়ে সূর্য অস্ত যেত, আর যে সূর্যমুখী
ফুল আমি চিনিনে, দেখিনি কখনো, কি রকম দেখতে কে জানে, আমার মনে হতো তাই যেন ফুটে রয়েছে আমার কোলের
উপর।'
এ এক অনন্য ভালোবাসার ঝলক নেমে এসেছিলো তাঁর জীবনে।
প্রথম চুমুর অভিজ্ঞতা লিখেছেন। একবার দুটো সন্দেশ নিয়ে গিয়েছিলেন রিনির সঙ্গে
ভাগ করে খাবার জন্য। রিনি দুটোই মুখে পুরে দিয়েছিলো প্রথমে, পরে তার মুখের সন্দেশের কিছু অংশ পুরে দিয়েছিলো শিবরামের মুখে। এই অভিজ্ঞাতাই
লিখেছেন 'এই প্রথম চুমো
পাওয়া আমার জীবনে, সন্দেশের সঙ্গে মিশিয়ে চুমু খাওয়া সেই। প্রথম
অমৃত আস্বাদের জন্য রিনির কাছে আমি চিরঋনী।'
এবার চুমু খেয়েছেন তাঁদের বাড়ির ছাদে, তবে এবার মুখে নয়, পায়ে। নিজেই বলেছেন 'আমি আলতো হাতে ধরে তার পায়ের পাতার ওপরে আমার চুমু রাখলাম।' . . . . 'তারপর আমি বসে
রইলাম অনেকক্ষন সেই ছাদেই। অন্ধকার নামল, তারা উঠলো। সারা আকাশ তারায় তারায় রিনি রিনি করতে লাগলো।'
শিবরামের এই রিনি রিনি ভাব শুধু এতেই থেমে থাকেনি, প্রকাশ পেয়েছিলো তাঁর আধ্যাত্বিক উপলব্ধিতে। মার কাছ থেকে শেখা মাদুর্গার নাম স্মরণের
বদলে তাঁর মন চলে যেত রিনির স্মরণে।
এদিকে মেয়েদের বিবাহের তাগিদে ওই চিকিৎসক পরিবার চাঁচল ছাড়লেন কলকাতায় বসবাস
করার জন্য। রিনির বয়স তখন ১৪। রিনিদের চলে যাবার দিন ছিল শনিবার। আর সেই দিনই শিবরামের
উপর ভার পড়েছিল স্কুলের সভার মাঠে পুলিশ হাবিলদারকে গুলি করা। কিন্তু ঘটনার
আকস্মিকতায় তাঁর প্ল্যান গেল ভেস্তে এবং তিনি হয়ে গেলেন সভার মধ্যমনি। তাঁর ফিরে আসবার আগেই রওনা হয়ে গিয়েছে রিনিরা
আর দরজায় গায়ে রিনি লিখে গিয়েছে 'রামদা চলে গেলাম, ঋণী।' এই বানান ভুল যে ইচ্ছাকৃত তা বুঝতে বিন্দুমাত্র সংশয় ছিলোনা শিবরামের। মন থেকে প্রতিধ্বনি উঠে এসেছে,
ঋণী তো স্বয়ং তিনি আর
রিনি তাঁকে অন্নপূর্ণার মতো শুধু দিয়েই গিয়েছে, অকাতরে।
এরপর থেকেই শিবরামের বিশেষ টান হলো কলকাতা যাবার। মাকে বলেছেন কলকাতা গিয়ে মায়ের মানত পূরণের কথা
এবং সেইসঙ্গে রিনিদের বাড়িতে যাওয়া। নিজের
মনের আকুতি মিশিয়ে মার কাছে তাঁর আবেদন।
কিছুদিন পরে চিঠি
পেয়েছেন রিনির কাছ থেকে। লিখেছেন 'আদর করলাম চিঠিটাকে।' চিঠি পাবার পারের দিনই শিবরাম লিখলেন 'কোকিল ডাকে' কবিতাটি।
“. .
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
মনে পড়ে ছেলেবেলার বন্ধু খেলার
মিলন মেলার সঙ্গিনীকে
প্রতিদিনের রঙ্গিনীকে
কথায় গভীর ব্যাথায়
নিবিড়
সেই মোহিনীর সঙ্গটাকে
. . . . . . . . . . . . . . . . .
. . . . . . . . . . . . . . ‘
বুঝতে অসুবিধা
হয়না, রিনিকে উদ্দেশ্য করেই এই বিচ্ছেদের লেখা।
রিনির চিঠির মধ্যেই শিবরামের ভবিষৎ ভাগ্যপথের আভাস দেওয়া ছিল। রিনি লিখেছিলো, কলকাতায় মহাত্মা
গান্ধী আসছেন, দেশবন্ধু, সুভাষ বোস সবাই
রাস্তায় নেমেছেন। মদের আর বিলিতি কাপড়ের
দোকানে পিকেটিং। হাজার হাজার ছেলেমেয়ে স্কুল কলেজ ছেড়ে পথে বেরিয়েছে। শিবরাম
কলকাতায় এলে 'দুজনায় একসঙ্গে দেশের কাজে লাগা যাবে।'
এরপরেই দেশবন্ধুর সঙ্গে তাঁর কলকাতায় পাড়ি। দেশবন্ধুর নির্দেশে শিব্রামের
ন্যাশনাল কলেজে ভর্তি হওয়া। সেইখানে আলাপ হয় এক কাগজ হকারের সঙ্গে। কিন্তু বেশিদিন স্থায়ী হলোনা ন্যাশনাল
কলেজে এ পড়াশোনা, যদিও পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছিলেন সেখান থেকে।
শিবরাম নেমে পড়লেন এবার কাগজের হকারিতে।
রিনির সঙ্গে দেখা করবার আশায়, শিবরাম বেছে নিলেন বেথুন স্কুলের সামনেটা। মেয়েরাই সেই কাগজ
কিনে নিতো বেশিরভাগ আর শিবরাম খুঁজতেন তাঁর রিনিকে তাদের মধ্যে। যদিও তখনো
জানতেননা যে রিনি পড়ে সেন্ট মেরিস স্কুলে, বেথুন স্কুলে নয়। বিধাতা সদয় হলেন এবার দেখা হলো সম্পূর্ণ অভাবনীয়
ভাবে, মির্জাপুর স্কোয়ারের (শ্রদ্ধানন্দ পার্ক - এখন)
সভায়। দুজনে দুজনকে দেখে অবাক। রিনি জানায়, কয়েকবার চেষ্টা করেও জেলে ঢোকা হয়নি তার। ধরপাকড়ের পর ছেড়ে দিয়েছে তাকে। আবার
তার চেষ্টা, ছেলে হয়ে জেলে ঢোকা, ফ্রক ছেড়ে হাফপ্যান্ট পড়ে, চুল কেটে ছোট করে। তাঁদের দুজনকে পুলিশ ধরলই না। কিন্তু রিনি
বাধ্যপরিকর। সোজা ঢুকে গেলো একটি প্রিসন ভ্যানে। শিবরামও ঢুকলেন সেই ভ্যানে তবে এক
গোড়া সার্জেন্টের লাথির কল্যানে। জেলে গেলেও সেখানে রিনির দেখা পেলেন না। দুদিন পর, সেই জেলে এসে ঢুকলো ছেলের পোশাকে রিনি। শিবরামের কথায় 'সেও দেখতে পেয়েছিলো আমাকে। ছুটে এলো আমার দিকে। এসেই ঝাঁপিয়ে পড়লো আমার উপর।
জরিয়ে ধরল আমাকে . . . . .।' ছেলেদের বেশে রিনিকে দেখে শিবরামের অবস্থা "দেহিপদপল্লবমুদারাম"।
রিনির পায়ের দিকে তাকিয়ে বিভোর তিনি। বলেছেন, ফ্রক পরে থাকিস, শাড়ী পড়লে তোর সুন্দর পদপল্লব তো আর দেখতে পাব না।
এই জেলেই একটা মিষ্টি ভালোবাসার ঘটনা ঘটেছিলো।জেলে শিবরাম ঠান্ডায় বিষমভাবে
কাবু, জেলের কম্বলে শীত মানছেনা।শিবরামের উপর নিজেকেই
কম্বলের মতো বিছিয়ে দিয়েছিলো রিনি। সেইসময় জেলের কর্তারা, জেল ফটক খুলে রেখে দিত, ছেলেদের পালিয়ে যাবার সুযোগ করে দেবার জন্য।
দুজনেই পালালেন জেল থেকে। শিবরামের কথায় 'নিতান্তই
কাপুরুষের ন্যায় সেই রাত্তিরেই জেলের থেকে পালালাম আমরা।'
ছ্যাকড়াগাড়ি নিয়ে দুজনে পৌঁছুলেন রিনির বাড়িতে। রিনির মা, শিবরামের আসাকে ভালোভাবে নেননি। ইতিমধ্যে তাঁর অসুখটা দাঁড়ালো প্লুরিসিসে এবং
তাঁর স্থান হলো তিনতলার ছাদের চিলেকোঠায়, রিনির
তত্ত্বাবধানে। অনেকটা শরৎচন্দ্রের দেবদাসের মতো অবস্থা তাঁর।
এদিকে রিনির বিয়ের উদ্যোগপর্ব আরাম্ভ হয়ে গেছে । রিনির মার চিন্তা, মেয়েকে চুল দেখেই পছন্দ করেছিল,
এখন সেই চুল কাটার জন্য যেন বিয়ে বাতিল না হয়। আর এদিকে শিবরামের আশা যদি ঐ 'এক চুলের হেরফেরে রিনির বিয়ে বাতিল হয় . . . . . . . .।'
পাত্রের রিনিকে দেখার সময়, রিনি গাইলো, 'আমি তোমারই বিরহে রহিব বিলীন / আর তোমাতে করিব বাস / দীর্ঘদিবস, দীর্ঘরজনী, দীর্ঘবরষমাস।' শিবরাম লিখেছেন 'আমার মনের কথাগুলোই আমার কানের গোড়ায় উজার করে দিচ্ছে যেন।'
এগিয়ে এলো বিয়ের দিন আর তার আগে রিনির আশীর্বাদ। শিবরাম লিখেছেন 'আমার পার্বনের পালা ফুরোলো,
শেষ পর্বে এসে পড়লাম
শেষটায়।'
রিনির আশীর্বাদের আগে এলো,
শিবরামের বিশেষ আকাঙ্খিত রিনির চুমু খাবার আহ্বান। আশ্চর্য্যভাবে
প্রত্যাখ্যান করলেন রিনির আহ্বান। Chivalry বেরিয়ে এলো, বললেন 'তোকে আমি নষ্ট করতে পারি?' রিনির কাছ থেকে জীবনের শেষ পাওয়াটার হারানোর আফসোস
তাঁর কোনোদিনই যায়নি। তাই ৭০ বছর বয়সে
তাঁকে সখেদে লিখতে হয়েছে ' সেই কথায় আমার এখন হাসি পায়।'
এইবার এলো সেই বিশেষ এবং শেষ মুহূর্ত । আশীর্বাদের পরেই ঐ ঘরেই পড়ে রইলেন শিবরাম এবং তাঁর পাশে রিনি। ঘুমিয়ে পরলো রিনি। শিবরাম লিখেছেন ' কেউ লক্ষ্য করছিলো না তাকে - আমিই একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিলাম তার দিকে। আমিই কেবল চেয়েছিলাম হাঁ করে, ফাঁসির আগেকার এই খাওয়া আমার - গিলছিলাম আমার দুচোখ দিয়ে।'
' ঘুমের ঘোরে গড়াতে গড়াতে কখন সে আমার চেয়ারের গোড়ায় চলে এসেছে - আমার পায়ের কাছটিতে।'
' পা গুটিয়ে নিয়েছি আমি - পাছে ওর মাথায় পা ঠেকে যায় আমার।'
' ঘুমের ঘোরেই যেন সে হাত তুলেছে, আলতো করে পা ছুঁয়েছে আমার, তাঁর পরে সেই হাত নিয়ে যেন ঘুমের আবেগেই মাথায় ঠোঁটে ঠেকিয়েছে নিজের।'
'এটা কি ওর বিদায় নেওয়া নাকি? চিরবিদায় তার? এমনি করেই?'
' আমার মনটা কেমন করে উঠলো।আমি আর বসতে পারলাম না। উঠে পড়লাম তক্ষুনি।"
ফিরে এলেন তাঁর অতি পরিচিত ঠনঠনিয়াতে।
দীর্ঘ ৭০ বছর এই কৈশোর ভালোবাসার যে অপরূপ
আস্বাদ তা তিনি গোপন করে গেছেন। নিজের মনের
গভীরে নিরন্তন প্রশ্নে জর্জরিত হয়েছেন, লিখেছেন - ' আচ্ছা এটা কি করলো রিনি?'
'ঘুমের ঘোরে
আড়মোড়া ভাঙার ছলনায় সবার অলক্ষে সে আমার পায়ে হাত ঠেকিয়ে এই যে নিজের মুখে ঠেকানো
- মানেটা কী এর? এ কী রকমের বিদায় নেওয়া? কী ধরনের বিদায় দেওয়া?'
'অনেকদিন ক্ষনে ক্ষনে
সেই কথাটা মনে মনে ভেবেছি, ভাবি আমি আজও। কিন্তু মানে খুঁজে পাই না। মনে
হয়, বিদ্যায় বুদ্ধিতে বয়সে অভিজ্ঞতায় মেয়েরা যতই
পরিনত হোক না, সারা জীবন ধরে আসলে তারা সেই একরকমটাই থেকে যায়
- সেই পরিনীতাই।'
রিনির প্রতি তাঁর ভালোবাসা এতই প্ৰগাঢ় ছিল, সেই কৈশোরের ভালোবাসা তাঁর মনের গভীর গোপনে এতই উজ্জ্বল ছিল যে সেই উজ্জ্বলতায় উদ্ভাসিত হয়ে সত্তোরোর্ধ বয়সে লিখেছেন 'মনে পড়ে,চাঁচলে মেঠো পথ দিয়ে চলার কালে রিনি আমার গলা জড়িয়ে ধরত। সেই আকণ্ঠ অমৃত আজন্ম সুরুভীর মতো ক্ষনে ক্ষনে আমায় উন্মন্ করে তোলে এখনও।'
রিনির সঙ্গে তাঁর আবার দেখা হয়েছিল কিনা তা শিবরাম ব্যাক্ত করেননি। মনে হয়, তিনি সম্পর্ক রাখেননি, শুধু মনের গভীরে রেখে দিয়েছিলেন। নাই বা থাকলো কোনো সামাজিক বন্ধন, নাই বা থাকলো রিনির সঙ্গ, তাঁর ভালোবাসার বন্ধন যে দৃঢ় ও অটুট , তা জীবন সায়াহ্ণে এসে প্রমান করলেন শিবরাম।
জীবনের শেষ সময়ে,
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে
যখন ডাক্তারদের 'কেমন আছেন'
প্রশ্নের উত্তরে
বলছেন 'ফার্স্টক্লাস আছি',
কে জানে, এই উত্তর তাঁর আদরের পরিনীতা রিনির জন্য কিনা !
------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
Comments
Post a Comment